বিনোদন – বাংলার পথে পথে https://bangali.shutorang-bangladesh.com এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ Sat, 24 Jan 2026 15:36:37 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 জীবন সঙ্গি – ১ https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf-%e0%a7%a7/ https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf-%e0%a7%a7/#respond Mon, 31 Aug 2020 06:08:56 +0000 https://bangali.shutorang-bangladesh.com/?p=144 আসসালামু আলাইকুম

সারা পৃথিবী এক ভয়াবহ ও দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আসুন আমরা সবাই আরও একটু সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন হবার পরামর্শ দেই। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন – আমীন।

আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এইকারনে যে, মনোযোগ সহকারে আমার এই পোস্টটি পরেছেন। আমি অনেক দুঃখিত যে আপনাদেরকে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাকি অংশটুকু লিখতে শুরু করলাম।
আমি যেন কোথায় ছিলাম, হ্যাঁ মনে পরেছে।

আমাদের কথা যখন শেষ তখন সবাই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হচ্ছি তখনই ঘটক সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, মেয়েটিকে কি আমার পছন্দ হয়েছে কিনা? আমি তখন কোন উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছিলাম যে, আপনি খোঁজ নেন যে আমাকে কি তারা পছন্দ করেছে কিনা? এইখানে বলে রাখা ভাল – প্রথম দেখাতে কিন্তু নিলিমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। যখন আমরা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় জানাচ্ছি তখন নিলিমা আমার দিকে একবার ফিরে তাকিয়ে কি যেন বলার চেষ্টা করছিল কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, আমি কিছুই বুজতে পারি নাই। সবার সাথে বিদায় নিয়ে একে অপরের কাছ থেকে যে যার মত বাড়ি ফিরে গেলাম।

এইখানে একটি কথা আপনাদেরকে জানাই, সেটা হল ঘটক সাহেব কিন্তু আমাকে বলেছিলেন নিলিমার মা আমাকে বেশ পছন্দ করেছিলেন তার মেয়ের জামাই হিসাবে। কিন্তু উনি তখনও আমাকে সেটা বুজতে দেন নাই। আমি ঘটক সাহেবকে বলেছিলাম আঙ্কেল, যদি সম্ভব হয়, তাহলে নিলিমার নাম্বারটা যেন জোগাড় করে আমাকে দেয়। ঘটক সাহেব তখনই আমাকে বলেন যে, তার কাছে মেয়ের মানে নিলিমার নাম্বারটা আছে। আমাকে আঙ্কেল এই বলে দিতে চাইলেন। কিন্তু আমি তখন আঙ্কেল এর কাছ থেকে নাম্বারটা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করিনি। কারন আমি জানি, কারও নাম্বার নিতে হলে তার সম্মতি দরকার হয়। তাই আমি বলেছিলাম, আঙ্কেল আপনি মেয়ের (নিলিমার) নাম্বারটা তার পরিবারের কাছ থেকে সম্মতি নিয়ে যেন আমাকে দেন। এই বলে আমি তখন আমার গাড়িতে উঠে বসলাম।

আপনাদেরকে একটা কথা বলি, আমি কিন্তু সেইদিন একটা মেয়ের সাথে ঘুরতে যাবার কথা ছিল। আগের পোষ্টটিতে আমি এই কথা গুলো আপনাদেরকে শেয়ার করেছিলাম – “আমি আসলে আমার পরিচিত একজন মানুষের সাথে দেখা করব বলে কথা দিয়েছিলাম।” যদি আমি কথা দিয়ে থাকি তাহলে আমি চেষ্টা করি সেটা রাখার জন্য। আর যদি কোন ভাবে না পারি, তাহলে বুঝিয়ে বলি না পারার কারণটি। এখন আপনারা ভাবতে পারেন বিয়ের জন্য মেয়ে দেখছি আর অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলা বা ঘুরতে যাওয়াটা কতটুকু যুক্তি সঙ্গত। আসলে আমি এইখানে আমার সাফাই গাইব না। কিন্তু আপনারা যাতে ভুল না বুঝেন তার জন্য সেই ব্যাখ্যাটা আমি দিতে চাই। এই মেয়েটিকে আমি চিনি বেশ কয়েক মাস হল। আমার এক অফিস কলিগ আমাকে তার সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। সেখানেই মেয়েটির সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। মেয়েটি ছিলেন আমার অফিস কলিগের গার্লফ্রেন্ড এর খালা। না না খালা বলেছি বলে তার অনেক বয়স সেটা ভাবার কোন প্রশ্নই নেই, কারন অফিস কলিগের গার্লফ্রেন্ড ও তার খালা একই বয়সের। খালা একা একা বোধ করবেন বলেই মনে হয় আমাকে সাথে নিয়েছিলেন। আরও একটা কারন হতে পারে, আমার অফিস কলিগ ভেবেছিলেন আমাদের সাথে যেন কিছু একটা হয়।

যাই হোক, পরের কথায় আশা যাক। আমি সেই দিন নিলিমার পরিবারদের সাথে দেখা সাক্ষাত শেষ করে চলে গেলাম মেয়েটির সাথে দেখা করার জন্য। এইখানে মেয়েটির ও একটা নাম দেই – ফারিয়া।

বাসায় যখন গেলাম তখন আমার বাবা ও মা, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন মেয়েটিকে আমার কেমন লেগেছে। আমি খুবই সংক্ষেপে বলেছিলাম যে আমার মেয়েটিকে পছন্দ হয়েছে। এইখানে তোমরা কথা বলতে পার। যেহেতু আমার আরও একটা সাক্ষাৎ ছিল তাই খাওয়া দাওয়া শেষ করি অনেকটা তারা হুরা করে। বাসা থেকে বেরিয়ে পরলাম ।

সময়টা তখন ৩ ঘটিকা। আমি “টি এস সি” র মোড়ে অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের কথাছিল আমার এইখানেই মিলিত হব। তারপর ঘুরতে যাব। যথা সময়ে ফারিয়ার সাথে দেখা হল। আমরা সময় নষ্ট না করে দিয়া বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম। আনুমানিক ৪ টা ২৫ মিনিটে আমাদের গন্তব্যে গিয়ে নামলাম। সেখানে অনেকক্ষণ ঘুরা ঘুরি করার পর আমরা একটা প্লান করি, আগামীকাল মানে ১৫ই অগাস্ট ২০১৫, তে আমরা নন্দন পার্কে যাব। তারপর যথারিতি ফারিয়াকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে, আমি চলে গেলাম আমার বাসায়।

বাসায় এসে খুবই ক্লান্ত লাগছিল। মোটামুটি সকাল থেকে গাড়ি ড্রাইভ করছিলাম। আর আপনারা তো জানেন ঢাকা শহরে গাড়ি ড্রাইভ করা এখন খুবই বিরক্তিকর। অনেক জ্যাম থাকে, অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। বাসায় এসে জানতে পারলাম ঘটক সাহেব আমার বাবাকে নাকি ফোন করেছিলেন। কি কথা হয়েছিল তখন আমাকে কিছুই বলা হয়নি। কিন্তু আমার জানার অনেক আগ্রহ ছিল। রাতে আমরা সবাই যখন রাতের খাবারের জন্য বসেছি তখন মা আমাকে জানালো যে, ঘটক সাহেব নাকি মেয়ের নাম্বারটা তাদেরকে দিয়েছেন আমাকে দেওয়ার জন্য। আর বলেছেন আমি চাইলে ফোনে কথা বলতে পারি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে মা আমাকে নাম্বারটা আনে দিলেন বাবার কাছ থেকে। কিন্তু আমার সাহস হল না সেদিন কথা বলার। কি বলবো কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। যেহেতু কাল ফারিয়া ও আমি নন্দন পার্কে যাব, তাই আমি আমার কাপড় চোপর রেডি করলাম যদি পানিতে নামতে হয় এই ভেবে। কিছুক্ষণ টিভি দেখে ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রায় ৯ টা বেজে গিয়েছিল। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে চলে গেলাম “টি এস সি” র মোড়ে। কারন এইটাই ছিল আমাদের সাক্ষাতের ঠিকানা। যেয়ে দেখি ফারিয়া একটা ছেলের সাথে কথা বলছে। আমাকে দেখে ছেলেটি ফারিয়ার সাথে বিদায় নিয়ে চলে গেল। ফারিয়ার কাছে যেতেই ফারিয়া আমাকে বলল চল আমরা যাত্রা শুরু করি। তখন আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম যে ফারিয়া আমার সাথে ছেলেটির পরিচয় করিয়ে দিল না কেন। একটা কথা বলে রাখা ভাল যে, মেয়েটিকে আমার ভালই লাগতো। কিন্তু তখনও আমরা কেউ কাউকে কিছুই বলিনি। ফারিয়ার কিছু আচরনে আমি মাঝে মাঝে খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। তারপর যখন আজকে আবার দেখলাম তখন মনে মনে চিন্তা করছিলাম যে, ফারিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিব। যেহেতু আজকে আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা ছিল বেড়াতে যাওয়ার, সেহেতু নিজেকে সামলে নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করলাম।

গাড়ির মধ্যে আমি ফারিয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ছেলেটি কে? সে কিছু না বলে প্রসঙ্গটা পালটে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল। আমিও আর বাড়াবাড়ি না করে ড্রাইভ করতে লাগলাম। আমরা নন্দনে অনেকক্ষণ ঘুরে বেরালাম, পানিতেও নামলাম। বলা যায় খুবই একটা ভাল সময় পার করলাম।

আমরা যখন নন্দন থেকে বের হলাম তখন আমরা আমাদের মোবাইল ফোনটা অন করলাম। ফন অন করার সাথে সাথে ফারিয়ার ফোনে ফোন আসা শুরু হল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কে ফোন করছে, সে বলল বাসা থেকে। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল যে, ফোনটা আসলে অন্য কেউ করেছিল। কিন্তু কে সেটা জানি না। আমরা যখন উত্তরা পার হচ্ছি তখন ঘটক আমাকে ফোন করেছিল। আমি ফোনটা ধরে বললাম যে, আমি গাড়ি ড্রাইভ করছি, ফ্রী হয়ে তাকে কল করবো। এরপর অনেকটা সময় নীরবতা।

ফারিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করল আমাকে কে কল করেছিল, আমি বলেছিলাম ঘটক। ফারিয়া জানতো আমার জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছে। আর জানতে চাইল কেন করেছে। আমি ওকে জানালাম আমি যে গতকাল মেয়েটিকে দেখেছিলাম সেই মেয়েটির নাম্বারে যেন আমি কল করি। মেয়েটি আমার সাথে কথা বলতে চাইছে। ফারিয়া মনে হয় একটু মন খারাপ করেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করাতে সে বলল কিছুনা। আমরা “টি এস সি” র মোড়ে এসে থামলাম। এবার আমি ফারিয়াকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম ছেলেটি কে ছিল? ফারিয়া কোন উত্তর দিল না। আমি অনেকটা রাগের স্বরে ফারিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি যদি আমাকে না বল তাহলে আমি কিন্তু তোমার সাথে কোন রকমের যোগাযোগ রাখব না। তখন সে আমাকে বলল সেই ছেলেটি তার বয়ফ্রেন্ড। আমি তখন তাকে বললাম তাহলে তুমি আমার সাথে কেন ঘুরা ঘুরি কর? আমার তো কেউ নেই, বাসার থেকে আমার জন্য মেয়ে দেখছে। পছন্দ হলে বিয়ে করে ফেলব। আমি তো তোমাকে আগেই এই কথাগুলো শেয়ার করেছি। তুমিতো সব জেনেশুনে আমার সাথে মেলামেশা করেছো। কিন্তু আমি যদি জানতাম তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে তাহলে আমি তোমার সাথে মেলামেশা করতাম না। আমি মনে মনে ওকে একটু পছন্দও করেছিলাম। ফারিয়া অনেক সুন্দর করে হিজাবের মত করে ওড়না মাথা থেকে ঢাকে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। সেই কারনে আমার ওকে অনেক ভাল লাগতো। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন আমি আসতে দেরি করে ফেলতাম, তখন ফারিয়াকে ওই ছেলেটির সাথে কথা বলতে দেখতাম। তখন মনে হত ছেলেটি হয়তো ওর পরিচিত। কিন্তু সবসময় কেন, সেই ছেলেটিই থাকবে। সন্দেহ হয়েছিল কিন্তু বলতে পারি নাই।

বাসার থেকে যখন বলত আমার কোন পছন্দ আছে কিনা তখন আমি ওর কথা বলতে চেয়েছিলাম, মানে ফারিয়ার কথা। কিন্তু না বলতে পারি নাই। কারন আমি অপেক্ষা করছিলাম ভালো সময়ের জন্য। তারপর ওকে যখন দেখতাম আমাদের কথা বলার মাঝখানে ফোনে ওই ছেলেটির সাথে কথা বলত একটু আড়াল হয়ে তখন আমি নিজেকে একটু গুটিয়ে নিয়েছিলাম। আর বাসায়ও বলেছিলাম, যে আমার কোন পছন্দ নেই। আমার সাথে এই রকমের একটা ঘটনা আরও একবার হয়েছিল, তাই এইবার আমি আর সেই ঘটনাটি আমার সাথে আবার হোক তা চাইনি। তাই এইবার একটু সাবধানে মেলামেশাটা শুরু করেছিলাম।

যাই হোক, ব্যাপারটা আমার ভাল লাগেনি, তাই সেখান থেকে বাসায় চলে আসি। আর মনে মনে নিজেকে বুঝাই যাই হয় ভালোর জন্যই হয়। তারপর …

আরেকদিন সময় করে লিখব, যদি মহান আল্লাহ্‌ আমাকে সুস্থ, স্বাভাবিক ও জীবিত রাখেন। দোয়া রইল সবার জন্য আর আমার জন্য দোয়া করবেন…

]]>
https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf-%e0%a7%a7/feed/ 0
মিঠামইনের বুকে পিচঢালা পথে রূপকথার গল্প বুনে পর্যটকরা https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%aa/ https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%aa/#respond Mon, 31 Aug 2020 04:26:35 +0000 https://bangali.shutorang-bangladesh.com/?p=126 শুষ্ক মৌসুমে যতদূর চোখ যায় শুধুই ফসলি জমি আর ধূলিওড়া মেঠোপথ। আর বর্ষায় নীল জলরাশি ডুবিয়ে দেয় দিগন্ত সীমার সবটুকু। এরই মাঝে জেগে থাকা ৩৫ কিলোমিটার পিচঢালা অলওয়েদার রোড হাওরের বুক চিরে দুভাগ করে এগিয়ে যায়। সড়কটি মিঠামইনের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে দেয় ইটনা ও অষ্টগ্রামের।

এদিকে হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের দোল খেতে নৌকায় চড়তে তো হবে অবশ্যই। তখনই চোখে পড়বে দূরের জমাট কচুরিপানা। পরে ভুল ভাঙবে। একেকটি কচুরিপানার স্তুপ তো একেকটি গ্রাম। এসব গ্রামবাসীর গর্ব এখন তাদের তিন উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধন সেই সংযোগ সড়ক । যেখানে ভ্রমণে প্রতিদিনই ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। নিকলীর বুকে পিচঢালা পথে রূপকথার গল্প বুনে পর্যটকরা।
সড়কটি পর্যটকদের কাছে ভ্রমণ-বিলাসের উপকরণ মনে হলেও স্থানীয়দের জন্য আর্শীবাদ। ‘বর্ষাকলে নাউ শুকনাকালে পাও’ – স্থানীয়দের মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলা এই প্রবাদকে হাওরের জলে ডুবিয়ে দিয়েছে এই সড়ক। সড়কটি হাওরের প্রাণভোমরায় পরিণত হয়েছে।
বলছিলাম হাওর-বাওরের দেশ কিশোরগঞ্জের কথা। সেখানের নিকলী হাওর আর মিঠামইনের জলের বুক চিরে চলে যাওয়া মসৃণ সড়কের কথা।
গত অর্থবছরে ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতে ব্যয় হয় এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।
এই সড়কে ভ্রমণ বিলাসে মেতেছেন পর্যটকরা। ইতিমধ্যে ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় পাখির চোখে সেই সড়ককে দেখেছে ভ্রমণপিপাসুরা। যেন উত্তাল জলের ওপর দিয়ে কালো মসৃণ কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে কেউ।
সড়কটি কিশোরগঞ্জের তিন হাওর উপজেলা ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে এক করেছে। সারা বছরজুড়েই এ রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে। রাস্তাটি হাওরের চেহারাই বদলে দিয়েছে। এটিই এখন পর্যটকদের মূল আকর্ষণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সড়কটির ছবিতে সয়লাব। নেটিজেনদের অনেকের প্রোফাইলে শোভিত হচ্ছে এই সড়ক। ভ্রমণভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার হচ্ছে নানা কায়দায় তোলা সড়কটির ছবি। কেউ কেউ সড়কটির ফাঁকে ফাঁকে স্থাপিত মনকাড়া সেতুগুলোয় দাঁড়িয়ে সেলফি নিয়ে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করছেন।
এমনই একদিন দ্য ব্যাকপ্যাকার্স নামের একটি ভ্রমণপিপাসু গ্রুপে দেয়া নিকলী ও মিঠামইন হাওর এবং সেই দিগন্ত বিস্তৃত সড়কের বেশ কয়েকটি ছবি আমাকে মোহিত করে। যোগ দেই এক ঝাঁক তারুণ্যনির্ভর দলটির সঙ্গে। দলটি দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণপিপাসুদের নিয়ে বেরিরে আসছে নিয়মিতই ।

অবশেষে শুক্রবার দ্য ব্যাকপ্যাকার্সের সঙ্গেই পাড়ি জমাই ১২২টি হাওরের দেশ কিশোরগঞ্জে। ঢাকা থেকে কাকডাকা ভোরেই রওনা দিয়ে দুপুরের আগেই যখন নিকলীর জলে পা ছোঁয়াই। ভাষাহীন অনুভূতির প্রশান্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়ে। মুখ তুলে দৃশ্যকে আরও বড় করি। হাওরতে তখন সাগর মনে হয়।

ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়েই রওনা দিই মিঠামইনের উদ্দেশে। নৌকাতেই উপভোগ করি হাওরের মাছের অমৃত স্বাদ। দুই ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে নৌকা নোঙর পোতে মিঠামইনের ইসলামপুরে। সেখান থেকে অটোচালিত রিকশায় চেপে ১৫-২০ মিনিট যেতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল চেনা সব ছবি। অনেকের টাইমলাইনে ঘুরঘুর করছিল যেসব ছবি।
সত্যি অসাধারণ সব দৃশ্য। কথিত আছে, তাজমহল দেখে যাওয়া পর্যটকরা একেকভাবে এর সৌন্দর্য প্রকাশ করেন। কারণ সকালের নরম তুলতুলে রোদের শুভ্র তাজমহল থেকে দুপুর বেলায় জ্বলজ্বলে আলো ঠিকরে পড়ে। বিকেলের মন্দা আলোয় যে তাজমহল দেখা যায় তার সঙ্গে সকাল- দুপুরের দৃশ্যকে কেউ মেলাতে পারে না।
মিঠামাইনের পরিবেশকেও আমার তেমনই মনে হলো। সকালের নীল জলরাশি দুপুরে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। রাতের পূর্ণিমায় সেই জলরাশি থেকে আঁকাবাঁকা রূপালি নুপুরের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। আর পিচ ঢালা পথ তাতে ঢেলে দেয় সৌন্দর্যের অমিয় সুধা।
রাতে দ্য ব্যাকপ্যাকার্স গ্রুপের হোস্ট ফয়সাল আহমেদ জানালেন দুঃখের কথা। এমন সুদর্শিনী হাওরের কোথাও রাতযাপনের সুব্যবস্থা নেই। তাই গভীর রাতে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের ব্যবস্থা করে দিতে পারছেন না তারা। তাছাড়া এখানে ভালোমানের হোটেল-মোটেল নেই। শৌচাগারও নেই।
ভাবলাম এমন সীমাবদ্ধতা আর করোনাকালকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এতো পর্যটকদের ঢল নেমেছে হাওরে! ছুটির দিনে নাকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায় পুলিশরা।
হাওরের সড়কটি প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০০০ সালে নিকলী উপজেলা সদর থেকে মোহরকোনা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সোয়াইজানি নদীর তীর ঘেষে প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর এক পাশেই বিস্তীর্ণ হাওর।

]]>
https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%aa/feed/ 0
জীবন সঙ্গি – সুচনা https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/rr/ https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/rr/#respond Mon, 31 Aug 2020 03:46:15 +0000 https://bangali.shutorang-bangladesh.com/?p=110 আসসালামু আলাইকুম

আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। সারা পৃথিবী এক ভয়াবহ ও দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আসুন আমরা সবাই আরও একটু সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন হবার পরামর্শ দেই। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন – আমীন।

যাই হোক এবার শুরু করা যাক। আমরা সবাই আমাদের সঙ্গি নিয়ে অনেক আলোচনা পর্যালোচনা করি মনের অজান্তেই। তাই এইখানে আমি সেই আলোচনা বা পর্যালোচনা করতে চাই না। আমি শুধু আমার সঙ্গিকে নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই।

আমাদের প্রথম দেখা হয় ১৪ই অগাস্ট, ২০১৫ তে। সেই দেখাটা কিন্তু হয়েছিল পরিবারের সম্মতিতে। আচ্ছা তার একটা নাম দেই – নিলিমা। নিলিমার সাথে যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল সেইদিন তার সাথে তার মা ও বাবা এসেছিলেন। আসলে দেখাটা হয়েছিল ঘটকের মাধ্যমে। এখন নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন আমি কোন দেখার কথা বলছিলাম। সেইদিন আমার মা কিছুটা শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন তাই আমার সাথে আমার মা ও বাবা ছিলেন না। আমি একাই সাহস করে পাত্রি দেখতে গিয়েছিলাম। সেইদিন ছিল শুক্রবার। জুম্মার নামাজ পরবো বলে সকাল সকাল দেখা করতে গিয়েছিলাম। আপনারা হইত বলতে পারেন তাহলে বিকালে নয় কেন? আমি আসলে আমার পরিচিত একজন মানুষের সাথে দেখা করব বলে কথা দিয়েছিলাম। তাই দেখা সাক্ষাৎ টা আগে ভাগেই সেরে নিতে চেয়েছিলাম।

আমার সাথে আমার গাড়ি ছিল, তাই আমি নিজেই ড্রাইভ করে কাঁটাবন মোড়ের একটু সামনে একটা ফাস্ট ফুড বা রেস্টুরেন্ট যাই। যেটা কিনা আগেই নির্ধারণ করা ছিল। প্রথমে যে রেস্টুরেন্টটা সিলেক্ট করা ছিল, সেটাতে বসার মত কোন পরিবেশ ছিল না। তাই উপায়েন্তর না দেখে পাশের আরেকটা রেস্টুরেন্টে আমার জন্য অপেক্ষায় ছিল নিলিমা ও তার পরিবার। আমি প্রথমে সেই রেস্টুরেন্টেই যাই যেটা কিনা পূর্ব নির্ধারিত ছিল। কাউকে না দেখে আমি আবার বাইরে চলে আসি, বাইরে আসার পরেই আমি আমাদের ঘটক সাহেবকে দেখতে পাই। প্রথমে একটু রাগ হয়েছিলাম। যাই হোক, পরের রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করার দরজা খুলার সাথে সাথে আমি একটু দূরে একটি মেয়েকে দেখতে পাই। মেয়েটিকে দেখেই আমার ভালো লেগেছিল। তাই মনে মনে আল্লাহের কাছে দোয়া করি যেন সেই মেয়েটি হয়। আল্লাহপাক আমার মনের কথে শুনলেন। আমাকে আমার ঘটক সাহেব সেই দিকে নিয়ে গিয়ে একটি সোফায় বসতে বললেন। মেয়েটিকে তখন সরাসরি দেখতে পারছিলাম না – কারন তখন খুব লজ্জা লাগছিল। তাই পাশে একটা আয়না ছিল, সবার নজর এড়িয়ে মেয়েটিকে সেই আয়না দিয়ে দেখছিলাম। নাহ বার বার মেয়েটি মেয়েটি বলতে ভালো লাগছে না। নিলিমাকে দেখতে খুবই সাধারণ লাগছিল কিন্তু আমার কাছে অসাধারন দেখতে লাগছিল।

এবার শুরু হল আমার ইন্টারভিউ দেওয়ার পালা। মানে আমি কি করি, কোথায় থাকি, আমার ফ্যামিলিয়ে কে কে আছে এই সব আরকি। আমি প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার মাঝে মাঝে নিলিমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলাম। কি এক ভাল লাগা কাজ করছিল তখন। আমরা মোটামুটি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট কথা বলেছিলাম। আমাকে যত প্রশ্ন সবই নিলিমার মা (অ্যান্টি) করেছিলেন। তারপর অ্যান্টির কথা যখন শেষ হয়েছিল তখন আমাকে বলা হল আমি কি নিলিমার সাথে একা কথা বলতে চাই কিনা। আমি তখন লজ্জায় না বলেছিলাম। কিন্তু মনে মনে খুব ইচ্ছে করছিল নিলিমার সাথে একা কথা বলতে। আমাদের কথা যখন শেষ তখন সবাই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হচ্ছি তখনই ঘটক সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, মেয়েটিকে কি আমার পছন্দ হয়েছে কিনা? আমি তখন কোন উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছিলাম যে, আপনি খোঁজ নেন যে আমাকে কি তারা পছন্দ করেছে কিনা? এইখানে বলে রাখা ভাল – প্রথম দেখাতে কিন্তু নিলিমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। যখন আমরা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় জানাচ্ছি তখন নিলিমা আমার দিকে একবার ফিরে তাকিয়ে কি যেন বলার চেষ্টা করছিল কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, আমি কিছুই বুজতে পারি নাই। সবার সাথে বিদায় নিয়ে একে অপরের কাছ থেকে যে যার মত বাড়ি ফিরে গেলাম।

চলবে…

]]>
https://bangali.shutorang-bangladesh.com/2020/08/31/rr/feed/ 0